সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল

শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু প্রকল্প, একটি সেতুর জন্য আর কত অপেক্ষা?

  • আপলোড সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০২:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৩-২০২৬ ০২:১৮:৪৮ পূর্বাহ্ন
শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু প্রকল্প, একটি সেতুর জন্য আর কত অপেক্ষা?
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাওর-নদী ও সীমান্ত বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনায় ভরপুর সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিত। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই সম্ভাবনার বড় একটি অংশ এখনও অপূর্ণ রয়ে গেছে। বিশেষ করে যাদুকাটা নদীর ওপর নির্মাণাধীন শাহ আরেফিন-অদ্বৈত মৈত্রী সেতু প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতা এখন স্থানীয় মানুষের হতাশা ও ক্ষোভের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রায় ৭৫০ মিটার দীর্ঘ এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ৮৬ কোটি টাকা এবং আড়াই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২১ সালের জুনের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নির্ধারিত সময় পার হয়ে বহু বছর অতিবাহিত হলেও সেতুটি এখনও পুরোপুরি স¤পন্ন হয়নি। নানা অজুহাতে বারবার সময় বৃদ্ধি হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি আশানুরূপ নয়। ফলে স্বপ্নের সেতু যেন ধীরে ধীরে হতাশার প্রতীকে পরিণত হচ্ছে। এই সেতুটি শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি তাহিরপুরের অর্থনীতি, পর্যটন ও সীমান্ত বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। বাদাঘাট বাজার জেলার অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন বাজার, যেখানে প্রতিদিন আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের বিপুল মানুষ কেনাবেচা করতে আসেন। পাশাপাশি বড়ছড়া, চারাগাঁও ও বাগলী শুল্ক স্টেশন থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব আয় করে। অথচ একটি সেতুর অভাবে এই সম্ভাবনাময় অঞ্চল এখনও কাক্সিক্ষত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। পর্যটন খাতের কথাও এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। যাদুকাটা নদী, বারিক টিলা, সীমান্তবর্তী পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং হাওরাঞ্চলের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক এই অঞ্চলে আসেন। কিন্তু দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা তাদের ভোগান্তি বাড়ায় এবং অনেক সম্ভাব্য পর্যটক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতি প্রত্যাশিত গতি পায় না। বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু প্রকল্প প্রায় আট বছরেও শেষ না হওয়া অবশ্যই উদ্বেগজনক। এতে যেমন সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তেমনি জনগণের আস্থাও ক্ষুণè হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাহিরপুরবাসীর প্রত্যাশা- এই প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও বিলম্বের কারণ স্পষ্টভাবে জনসম্মুখে তুলে ধরা হোক এবং দ্রুততম সময়ে নির্মাণকাজ স¤পন্নের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। প্রয়োজনে প্রকল্প তদারকি জোরদার, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। তাহিরপুরের মানুষের কাছে এই সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটি উন্নয়ন ও সম্ভাবনার প্রতীক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত এই সেতু চালু করা গেলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সীমান্ত অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে। এখন প্রশ্ন একটাই- তাহিরপুরবাসীর সেই স্বপ্ন পূরণে আর কত অপেক্ষা?

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স